বাংলাদেশ ই-কমার্সের জন্য কতটুকু উপযুক্ত?

বাংলাদেশ কাজ করার জন্য ভালো জায়গা না এটা আমাদের সবারই কমন বাজে ধারনা।সবাই CPC কম দেখেই হাস্যকর জাজমেন্টে চলে যাই।গুগলের এড দেখিয়ে কামাই করা তো আর সব না।অথবা কেবল Affiliate Marketing ই তো সব না। ই-কমার্সের জন্য বাংলাদেশই ভয়ানক উর্বর জায়গা।বিশ্বাস করেন বা না করেন,বাংলাদেশে এখন যেকোন পণ্য নিয়েই সফল হওয়া সম্ভব।জনসংখ্যার তুলনায় প্রতিযোগীতা এতই কম যে আপনি মোটামুটি একটা প্রোডাক্ট নিয়ে নামলেই সফল হতে পারবেন।

একটা উদাহরণ হিসেবে Cat Food এর উদাহরণ দেই। আমাদের স্বাভাবিক চিন্তা ভাবনার কারণে শুরুতেই চিক্কুর মেরে বলে দিব, “ধুরু ভাই, যে সমাজের মানুষ ভাত না খেয়ে মারা যাচ্ছে,মানচিত্র চিবিয়ে খাচ্ছে,পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি সেখানে আপনি বিলাইর খাবার বেচবেন?এসব ইউরোপ-আম্রিকার পণ্য। আমাদের দেশে এসব চলে না। ” এরকম বলাটা স্বাভাবিক। তবে এখন একটু উদার মনে চিন্তা করে আমাকে বলুন তো; আপনার আশেপাশে কেউ কি বিড়াল পোষে না?আমি তো বলতে পারব এমন মানুষ খুব কমই আছে যাদের পরম আত্মীয় কারও পালিত বিড়াল নেই।এই যদি হয় অবস্থা তাহলে ভেবে দেখেন বাংলাদেশে কত মানুষ বিড়াল পোষে।আর বিড়াল নিয়ে যে কত বড় বড় গ্রুপ দেশে আছে তা দেখেছন? এদের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পারলে Cat food অবশ্যই বিক্রি করতে পারবেন। অডিয়েন্স কিন্ত হিউজ এই বিলাসি পণ্যতেই।তাহলে সাধারণ পণ্যে কি রকম অডিয়েন্স থাকবে তা ভেবে দেখেন।আমাদের চিন্তা-ভাবনা দেশের মার্কেটে নেই বলে আমরা এভাবে ভেবে দেখি না।প্রকৃত সত্য হলো বাজেট বেশি থাকলে যে কেউ দারাজ,ইভ্যালি সাইটগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে কারণ ওরা ও ফাঁকা মাঠে গোল দিচ্ছে।তবে আমাদের এত দূর তাকানোর দরকার নেই।যেকোন একটা প্রোডাক্ট নিয়ে মাঠে নেমে অনায়াসেই একদম শুরু থেকেই মান্থলি হাজারখানেক ডলার চাইলেই কামানো যায়।মানুষের যেহেতু অভাব নেই,প্রোডাক্ট এরও অভাব নেই।এত সব প্রোডাক্ট সিলেক্ট না করে কেবল winning product বাছাই করতে পারলেই হলো।তবে একথা বলাটা মনে হয় ভালো হলো না।সব প্রোডাক্টই winning product । নিজেদের দিকে তাকাই। আমরা কি অপ্রয়োজনে কোন কিছু কিনি না?যা না কিনলেই চলে অথবা কেনার পর আগ্রহ চলে যায় এরকম পণ্য অহরহই কিনি মার্কেটিঙের ফাঁদে পড়ে।নিত্য পণ্য বাদ দেন,ডিসকাউন্ট অথবা ট্রেন্ডের পাল্লায় পড়ে কি আমরা একেকসময় একেক টুলস কিনছি না? অনেক টুলস আছে যা না কিনেই অনায়াসে কাজ চালিয়ে নেয়া যায়। আমি এরকম চিপায় পড়ে Frase কিনে বসে আছি। খুলেও দেখি নাই একদিন।দারাজে কোন একটা কাজে ঢুকে অন্ধকারে জ্বলে এরকম মার্বেলের দাম ৪৫ টাকা দেখে কিনে ফেলি।সাথে এরকম দামেই আরেকটা কলম পাই যার কালি সাধারণত দেখা যাবে না,তবে কলমের সাথে দেয়া লাইট ঐ লেখার উপর ফেললে লেখা ভিসিবল হবে।এটা দিয়ে জাল টাকাও শনাক্ত করা যায়।কিন্তু পরিতাপের বিষয় মার্বেল অথবা কলম কোনটাই আর ছুয়েও দেখি না।জানি না পণ্য দুটির বিবরণ শুনে আপনাদেরও কেনার ইচ্ছা জাগল কিনা!তাই অডিয়েন্স নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই।CPC কম হওয়াটা আপনার জন্য আশির্বাদ যদি আপনি আপনার নিজের পণ্য এদেশে বিক্রি করেন।

যে ছবিটি আমার এক বড় ভাইয়ের সাইটের।১০ দিনে এ পরিমাণ সেল হয়েছে সবই ফেসবুক এডের মাধ্যমে।খরচ হয়েছে ৭হাজার টাকার মতো। ফেসবুকের Lookalike audience আর Re-targeting ভয়ানক জোস দুইটা জিনিষ। আপনাদের আগ্রহ থাকলে আমি অবশ্যই সব স্টেপ বাই স্টেপ লিখব।

One thought on “বাংলাদেশ ই-কমার্সের জন্য কতটুকু উপযুক্ত?

  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *